Everyday 10 to 5pm except Monday. Friday 3-5 pm

সর্বজন গ্রাহ্য মানবমুক্তির দলিল।। মুনতাসীর মামুন

ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিশ্ব সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যুদ্ধ হলেও সবাই সচেষ্ট থাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারকগুলি যাতে অটুট থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যেমন, জার্মানির কেলোন শহরের মধ্যযুগের গির্জায় যাতে বোমা বর্ষণ না করা হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিল মিত্রপক্ষ। ইরাক-আমেরিকা যুদ্ধের সময় আমেরিকা ব্যবিলনের কোনা স্মারক যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক ছিল। আইএস ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে তালিবানরা সভ্যতা সংস্কৃতির স্মারক বিনষ্ট করেছে তাই তারা সভ্যতার নিরিখে সভ্য নয়। যেমন, হালাকু খান বা হুনরা।

ইউনেস্কো সে কারণে সারা পৃথিবীর সভ্যতা সংস্কৃতির স্মারক থেকে অতি মূল্যবানগুলোকে বিশ্ব সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করে যা হয়ে ওঠে বিশ্বসম্পদ, যা রক্ষা করার দায়িত্ব তখন সবার ওপরই বর্তায়।

এ কার্যক্রমের একটি শাখা ‘মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড’ [এমওডব্লিউ]। এই কর্মসূচির অধীনে বিশ্ব সভ্যতার নথিপত্র-এর একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এগুলিকে মনে করা হয় বিশ্ব ইতিহাস নির্মাণের অন্যতম দলিল। এমওডব্লিউ হচ্ছে বিশ্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তালিকা। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এভাবেই ইউনেস্কো সংরক্ষণের চেষ্টা করেন সভ্যতা সংস্কৃতির দলিল হিসেবে যে দেশের যে ঘটনা [দলিল] যা সংরক্ষণের ঘোষণা হয়, সে দেশের ওপরও সেটি সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব বর্তায়। এ পর্যন্ত ঘোষিত এমওডব্লিউর সংখ্যা ৪২৭। এ তালিকায় গত ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এর পরামর্শক সভা বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বক্তৃতা তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ব মানব পরবর্তী সময়ে এ বক্তৃতাটি সভ্যতার-সংস্কৃতির অন্যতম নথি হিসেবে সংরক্ষণ করবে। এ ধরনের স্মারক সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি দেশই আবেদন করতে পারে। পরামর্শক সভা যাচাই বাছাইয়ের পর তা সংরক্ষণের পরামর্শ দেয় ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৭ মার্চের বক্তৃতা সংরক্ষণের ঘোষণা বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। বঙ্গবন্ধুতো একটি দেশ উপহার দিয়েছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর আর কী অর্জন হতে পারে। কিন্তু তাঁর ভাষণের গৌরব এখন বাংলাদেশ বহন করবে, এটি বাংলাদেশের অর্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে। এর যথার্থ মর্যাদা দেয়ার দায়িত্ব এখন প্রতিটি সরকারের প্রতিটি প্রজন্মের। যে প্রজনা তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে না সে সরকার বা প্রজন্ম বিশ্ব সভ্যতা সংস্কৃতির মাপকাঠিতে জায়গা পাবে না।

বক্ততা কি দেখা যায়? অনেক বক্তৃতা শুধু শোনার নয়, দেখাও যায়। যেখানে দর্শকরাও অংশীদার হয়ে ওঠে বক্তৃতার । আমি বা আমরা ভাগ্যবান যে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ আমরা তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে অপরাহ্নে সেই বক্তৃতাটি শুনেছিলাম, দেখেছিলাম।

৭ মার্চের বক্তৃতায় স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল ঠিকই, কিন্তু নিছক স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপার তা ছিল না। পাকিস্তান নামক উপনিবেশে তাঁর ২৩ বছর বসবাসের অভিজ্ঞতার সংহত রূপ ছিল ৭ মার্চের বক্তৃতা। ঐ ২৩ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল তিক্ত, যন্ত্রণাময়, নিপীড়নমূলক। ৭ মার্চ এক অর্থে ছিল কলোনিতে বসবাসকারী একজন রাজনীতিবিদের বক্তৃতা যিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে মানুষকে মুক্তির পথ দেখাচ্ছিলেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন স্বাধীনতার। সে বক্তৃতা ছিল উপনিবেশে বসবাসকারী একজনের অভিজ্ঞতা এবং একই সঙ্গে সেই উপনিবেশের ইতিহাস।

৭ মার্চের বক্তৃতার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলেও কিছু আসে যেত না। ৭ মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র। রাজনীতিবিদ যিনি একাগ্রচিত্তে বাঙালিদের জন্য একটি বাসভূমি চেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি বাঙালির মুক্তির জন্য একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও সশস্ত্র পন্থার কথা চিন্তা করেছিলেন। পাকিস্তানের কাঠামোয় বাস করে গণতান্ত্রিক পন্থায় সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে বোধ হয় এই বিশ্বাসও করতেন যে, পাকিস্তানিদের মতো বর্বররা কখনও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমঝোতায় আসবে না। অস্তিমে সশস্ত্র পন্থাই হবে উত্তম। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ অন্তিমে বাঙালিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন সশস্ত্র পন্থার জন্য তৈরি হতে।

৭ই মার্চ দুপুর থেকে ঢাকা শহর এগুতে থাকে রমনা রেসকোর্সের দিকে। এত মানুষ! যেন পুরো ঢাকা শহর জমায়েত হয়েছে রেসকোর্সে। রেসকোর্সের একদিকে শ্লোগান- ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, তো অন্য দিকে- ‘পাঞ্জাব না বাংলা- বাংলা, বাংলা। হয়তো মাঝখানে ‘তোমার আমার ঠিকানা- পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। তো অন্য কোথাও- ‘তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’। মঞ্চের সামনে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো।’ কিন্তু যখনই কেউ বলে ওঠে, ‘জয় বাংলা’ তখনই নদীর ঢেউয়ের মতো সেই ধ্বনি ছড়িয়ে যেতে থাকে আর চারদিক কাঁপিয়ে সেই অমোঘ শব্দটি উচ্চারিত হয়- ‘জয় বাংলা।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন-

“আমি আব্বার মাথার কাছে বসে আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। এটা ছিল আমার রুটিন ওয়ার্ক। আমি সব সময় করতাম । ভাবতাম এটা না করতে পারলে আমার জীবন বৃথা। আব্বা যখন খাটে শুতেন, বালিশটা নামিয়ে আমার বসার জন্য একটা জায়গা করে দিতেন। আমি আব্বার মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছিলাম। মা পাশে এসে বসলেন। বললেন, “আজ সারা দেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। সামনে তোমার বাঁশের লাঠি, জনগণ আর পেছনে বন্দুক। এই মানুষদের তোমাকে বাঁচাতেও হবে- এই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। অনেকে অনেক কথা বলবে- তোমার মনে যে ঠিক চিন্তাটা থাকবে- তুমি সেই কথাটা বলবে- আর কারো কথায় কান দেবা না। তোমার নিজের চিন্তা থেকে যেটা আসবে যেটা সভাতে বলবা। এই ছোট্ট কথাটুকু মা আমার আব্বাকে ঐ সভায় যাবার আগে বলে দিয়েছিলেন।”

দৈনিক ইত্তেফাক, ৮ মার্চ ১৯৭১

৭ মার্চের বক্তৃতায় যে স্বতঃস্ফূর্ততা সেটি হয়তো এই পরামর্শ থেকেই এসেছে। ৭ মার্চের বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু এই দাবিগুলোই তুলে ধরেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এসে মঞ্চে উঠলেন। সারা রেসকোর্স কাঁপিয়ে ঝড়ো হাওয়ার মতো সেই অবিনাশী শব্দটি বয়ে গেলো- ‘জয় বাংলা!’

সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর কালো মুজিব কোট পরনে। আমরা যারা টি.এস.সির মোড়ে তারা দূর থেকে ঝাপসা একটি অবয়ব দেখি। সভায় কোন আনুষ্ঠানিকতা নেই । কালো ভারি ফ্রেমের চশমাটি খুলে রাখলেন ঢালু টেবিলের ওপর । শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন, সবই বোঝেন।”

উনিশ মিনিটের ভাষণ, লিখিত নয়। কিন্তু একবারও থমকাতে হয়নি। পরে বি.বি.সির ভিডিওতে ক্লোজ আপে দেখেছি আবেগে কাঁপছে তাঁর মুখ, কিন্তু সমস্ত অবয়বে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ছাপ। বোঝা যায় তিনি পিছোবেন না।

৭ই মার্চ যিনি রেসকোর্সে ছিলেন না, তাঁকে বোঝানো যাবে না ৭ই মার্চ কি ছিল বাংলাদেশের জন্য। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ বাঙালি মাত্র-ই জানেন। এই ভাষণের প্রতিটি উক্তিই উদ্ধৃতিযোগ্য। কিন্তু মূল বক্তব্যটি ছিল- “আর তোমরা গুলি করবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। সবশেষে বললেন, যা শোনার জন্য উন্মুখ ছিল বাংলাদেশ- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

এ নিয়ে একটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। তিনি প্রথমে মুক্তির কথা বলেছেন। এই হজে উপনিবেশের যাবতীয় শৃঙ্খল থেকে সার্বিক মুক্তি, ব্যাপক অর্থে । স্বাধীনতা শব্দটির ব্যাপকতা সীমিত। অর্থাৎ, স্বাধীনতা পেলে শুধু চলবে না, আমাদের সব শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হবে। সে কারণেই আমাদের যুদ্ধ ছিল মুক্তিযুদ্ধ এবং জনযুদ্ধ। হ্যাঁ, স্বাধীনতার যুদ্ধও। এবং সে কারণেই ১৯৭২ সালের সংবিধানে চারটি মূল উপাদানের তিনটি ছিল- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার শেষ লাইন ছিল- “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তাঁর সারা জীবনের লক্ষ্য যা ছিল তা শেষ বাক্যে সমাপ্ত করেন।

কঠিন সংকটে এত ভারসাম্যপূর্ণ অথচ আবেগময় বক্তৃতার সংখ্যা বিরল। কীভাবে তিনি তা পেরেছিলেন ভাবলে অবাক হতে হয়। বঙ্গবন্ধুর সীমাবদ্ধতা ছিল একটি রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বাধীনতার জন্য একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করা এবং স্বাধীনতার আহ্বান জানানো। সঙ্গে সঙ্গে সেই আহ্বান যেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আহ্বান না হয়- সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়েছিল। এই ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির সনদপত্র। এর গুরুত্ব আরো বেশি। পাকিস্তানকে বাঙালিরা প্রত্যাখ্যান করে। আর সেদিনই শেখ মুজিবুর রহমান গণমানুষের চেতনায় জাতির জনক বা জাতির পিতায় রূপান্তরিত হন।

সবশেষে, জয় বাংলা। এই দুটি শব্দকে নিছক শ্লোগান নয় একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এই ভাষণে তিনি অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎকে একই সঙ্গে বিবৃত করেছেন। পাকিস্তানের উপনিবেশ হিসেবে থাকার যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা বিবৃত হয়েছে অতীত অধ্যায়ে। বর্তমান পরিস্থিতি এসেছে তারপর । সব শেষে এসেছে ভবিষ্যতের শত্রুকে কীভাবে পরাভূত করতে হবে তার রূপরেখা।

এই ভাষণের আরেকটি গুরুত্ব এই যে, এখনও এর সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। স্বৈরশাসনের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ভাষণ অনুপ্রেরণা জোগায়। আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেন এবং কীভাবে অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে। এই ভাষণ বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

স্মরণাতীত কাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আর কোনো ভাষণ শুনতে এত মানুষ কোথাও জমায়েত হয়নি। আমি এখনও যখন এর ভিডিও রূপ দেখি, তখন শিহরিত হই, ফিরে যাই নিজ যৌবনে, মনে হয় প্রয়োজনে সব অনাচার, স্বৈরাচার, কুআচার লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার লড়াইয়ে শামিল হতে পারি, এই বয়সেও।

৭ মার্চের প্রচারপত্র

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পর শুধু ঢাকা শহর নয়, পুরো দেশটি বদলে যায়। বাষ্পেভরা পাত্রের মতো টগবগ করতে থাকে ৭ কোটি মানুষ। জোরদার হয়ে ওঠে অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশই হয়ে ওঠে সরকারি নির্দেশ । মানুষ তা মানতে থাকে। এমনকি সরকারি প্রশাসনও। লিখেছেন ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, “১৯৭১-এর মার্চ মাসের অসহযোগ প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। অসহযোগ আন্দোলনের লক্ষ্য পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো প্রত্যাখ্যান। পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে এই প্রতিরোধকে সূত্রপাত। শেখ মুজিবুর রহমান একটি সামগ্রিক রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এই প্রতিরোধ একটি রাষ্ট্র গঠনে বদলে দেন। এক পক্ষে অসহযোগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো প্রত্যাখ্যান। অন্যপক্ষে অসহযোগের মাধ্যমে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রবর্তনের সম্ভাবনা জনমনে সত্য করে তোলে এই রণকৌশল শেখ মুজিবুর রহমান ৩৫টি নির্দেশের মধ্য দিয়ে বাস্তব করে তোলেন।”

ইউনেস্কো যে এই বক্তৃতাটিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল তার পরিপ্রেক্ষিত এই। পাকিস্তানের ফ্রেমে একটি প্রদেশ বিক্ষুব্ধ, বাঙালিরা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ । তাদের ওপর সংখ্যালঘিষ্ঠরা সব চাপিয়ে দিয়েছিল বাঙালিদের নেতা তাদেরকে এ থেকে মুক্ত করতে চান কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও তিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান চান আবার সংখ্যাগরিষ্ঠকে ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আন্দোলনরত অবস্থায় রাখতে চান। এ বক্তৃতা তারই প্রতিফলন। কলোনির শৃঙ্খলিত মানুষের জন্য একটি দলিল যার এক ধরনের সর্বজনগ্রাহ্যতা আছে। ইংরেজিতে যাকে বলা যায় ইউনিভার্সেল অ্যাপিল বা সর্বজননীতা। এ দলিল বন্দী মানুষকে স্বপ্ন দেখায় মুক্তির, এর সর্বজননীতা সে কারণেই। আর এ জন্যই তা মানব মুক্তির দলিল।

এ বক্ততা উপনিবেশিক রাষ্ট্রের মধ্যেই সৃষ্টি করে একটি সমান্তরাল রাষ্ট্রের। সেদিক বিচার করলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা ছিল একটি ফর্মাল ডিক্লারেশন মাত্র। আসলে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের পত্তন হয় ৭ মার্চ। এভাবেই বাংলাদেশ এগোতে থাকে ২৫ মার্চের দিকে। ওই যে সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আঙুল তুলে নির্দেশ দিয়েছিলেন, বাঙালি তা মেনে চলে গিয়েছিল। পরাধীন পাকিস্তানে আর তারা ফিরে আসেনি।

সেই জয়ের পথ ধরেই আমাদের পথ চলা। আমাদের স্পর্ধিত ৭ মার্চ আজ অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সামিল বিশ্বমানবের মুক্তির মন্ত্র- জয়তু মুজিব! জয় বাংলা।

Post a comment